প্রযুক্তি খাতের ক্ষমতাধররা

Please log in or register to like posts.
News

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এ ক্ষেত্রে ব্যবসায় প্রযুক্তির বাজারে প্রভাব বজায় রাখা শীর্ষ ৩২ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন সাইট বিজনেস ইনসাইডার। এ তালিকায় থাকা কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেনআহমেদ ইফতেখার
মাইকেল ডেল
ডেল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী
৩০ বছর আগে মাইকেল ডেল নামে এক তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছিলেন একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এই দীর্ঘ ৩০ বছরে মাইকেল ডেলের গড়ে তোলা সেই প্রতিষ্ঠানই পরিণত হয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে। নিজের নাম ব্যবহার করেই মাইকেল ডেল তার প্রতিষ্ঠানের নাম রেখেছিলেন ‘ডেল’। মাইকেল সল ডেল একজন মার্কিন শিল্পোদ্যোক্তা যিনি ডেল ব্র্যান্ডের কম্পিউটার কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা। তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় তিনি ডেল ইনকরপোরেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী। ছোটবেলায় জমানো এক হাজার ডলার মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ১৯৮৪-এ কম্পিউটার উৎপাদনের লাইসেন্স গ্রহণ করেন তিনি। এরপর মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন নিজের প্রতিষ্ঠানেই। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ২০১১ সালে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই যুগে তিনি ডেলকে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় কম্পিউটার ব্র্যান্ডে উন্নীত করেছেন তিনি। মাইকেল ডেল বর্তমানে ডেলের চেয়ারম্যান এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। তার নেতৃত্বেই ২৯ বছরে ডেল শুধু বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পিসি নির্মাতাতেই পরিণত হয়নি মাইকেল ডেলকেও পরিণত করেছে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে।
এক ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, পথচলার সময় অবশ্যই মনে রাখবে, তুমি কোত্থেকে এসেছ। যে জায়গায় আমাদের জন্ম, সেখানকার ধুলোবালি আর স্বপ্ন সবাই আমরা লালন করি। পুরো পথেই নিজেকে প্রশ্ন করবে তুমি, ‘আমি কেন এই পথে? এর একটা উত্তর আমি তোমাদের বলতে পারি। সেটা হলো, জিততে। এই জেতাটা হচ্ছে নিজের সম্ভাবনাময় শক্তির জয়। এই জেতাটা হলো শ্রেষ্ঠ হিসাবরক্ষক, প্রকৌশলী অথবা শিক্ষক হওয়ার যে সম্ভাবনা তোমার মধ্যে আছে, সেটার জন্য নিজেকে বিশ্বাস করা। অন্য কারো সাফল্য দেখে নিজের সফলতাকে বিচার করো না।
আমি খুব সৌভাগ্যবান যে আমি আমার আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে সম্পর্কে সন্দেহাতীত ছিলাম জীবনের শুরু থেকেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। কিন্তু কম্পিউটারের সব বইপত্র, যন্ত্রপাতি আমাকে খুব টানত। হলে আমার রুমমেটও সে রকমই বলত। ১৯ বছর আগে ১৯৮৪ সালে আমার বয়স তখন ১৯। আমি ডেল নিয়ে কাজ শুরু করি, হলের ওই ঘরেই।
কোনো বিষয়ে তার আগ্রহ বেশি এটা অনেক মানুষই অনেক পরে জানতে পারে। আবার কেউ কেউ আছে, যারা এটা কখনোই জানতে পারে না। এরই মধ্যে তুমি যদি তোমার লক্ষ্যটাকে স্থির করে থাকো অথবা খুঁজছ এমন হয়, মনে রেখো, কৌতূহলই এনে দেবে তোমার জীবনের সফলতা। স্বপ্ন সত্যি করতে তোমার ভেতরে যে ‘তুমি’ আছে, তার কথা শুনতে হবে। আকাক্সক্ষা যদি বড় হয়, তোমার স্বপ্ন সত্য হবেই। সততা, নৈতিকতা ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি তোমার স্বপ্নের সঙ্গে আপস না করো, তুমি সফল হবেই।’
সত্য নাদেলা
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা ১৯৬৭ সালের ১৯ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ প্রযুক্তিবিদ হায়দরাবাদ পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাট চুকিয়ে মনিপাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
১৯৯২ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেন সত্য নাদেলা। বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষ সফটওয়্যার কোম্পানিতে যোগদানের আগে সান মাইক্রোসিস্টেমসের হয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে ওই কোম্পানিটি ওরাকল করপোরেশনের মালিকানাধীন। নাদেলা মার্কিন প্রভাবশালী সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিটির প্রথম নন-আমেরিকান সিইও। বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ২০০ টেক সিইওর তালিকার শীর্ষ চার নম্বরে রয়েছেন সত্য নাদেলা। এ ছাড়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিইওদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পান নাদেলা। তিনি বার্ষিক সম্মানী হিসেবে পান ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ ডলার।
বেশির ভাগ ভারতীয় নাগরিকের মতোই সত্য নাদেলা ক্রিকেটের অনেক বড় ভক্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় স্কুলক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে নাদেলা বলেন, ক্রিকেট খেলা থেকেই তিনি দলবদ্ধ হয়ে কাজ করা এবং নেতৃত্ব দেয়ার শিক্ষা পেয়েছেন। এর পাশাপাশি নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ রাশিয়ান উপন্যাস পছন্দ করেন তিনি। প্রযুক্তি ছাড়াও সত্য নাদেলা কবিতা পড়তে ভালোবাসেন। মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার প্রোফাইলের পাশে অন্যতম শখ কবিতা পড়ার কথা উল্লেখ আছে। তিনি তার বক্তৃতায় মাঝে মধ্যেই বলেন, কবিতা ও কোডিং অনেকটা একই জিনিস। অর্থাৎ কোনো একটি বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরতে অসংখ্য বাক্য ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সেটাকে সংক্ষিপ্ত করে কয়েক বাক্যের মধ্যে নিয়ে আসাই কবিতা। ‘হিট রিফ্রেশ’ নামে নিজস্ব বই নিয়ে কাজ করছেন নাদেলা। তিনটি বিষয়কে ভিত্তি করে এ বই লিখছেন তিনি। মাইক্রোসফটে যোগদানের বছরই, অর্থাৎ ১৯৯২ সালে সত্য নাদেলা তার স্কুল সহপাঠী অনুপমার সাথে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে ওয়াশিংটনের বেলভিউয়ে বসবাসকারী এ দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
ল্যারি এলিসন
ওরাকল-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান
সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকলের প্রধান ল্যারি এলিসন। ওরাকলের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী তার পরিচিতি। ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে জন্মগ্রহণ করেন এই সফটওয়্যার ব্যবসায়ী। তার বাবা ছিলেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। যিনি ছিলেন মার্কিন এয়ারফোর্সের পাইলট। ছোটবেলা থেকেই খুব পরিশ্রমী ও প্রতিকূল পরিবেশে বড় হয়েছেন ল্যারি। শত বাধা সত্ত্বেও নিত্যনতুন গবেষণার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। স্কুল অব শিকাগো থেকে গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৭০ সালটা ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। সে সময় তিনি একটি ডাটাবেজ তৈরি করেছিলেন, যা পরে ওরাকল নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে।

Leave a Reply